July 21, 2025

বাংলাদেশঃ তীব্র গরমে কর্মজীবী মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমুকির মুখে

জলবায়ু সংকটে নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বার্থ সরকার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ

বাংলাদেশঃ তীব্র গরমে কর্মজীবী মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমুকির মুখে 

জলবায়ু সংকটে নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বার্থ সরকার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ

(সান ফ্রান্সিসকো, ২২ জুলাই) – মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকটজনিত প্রবল তাপপ্রবাহ বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকাকে ব্যাপক হুমকির মুখে ফেলেছে।  ক্লাইমেট রাইটস ইন্টারন্যাশনালের (সি আর আই) আজ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। পোশাক কারখানা, নির্মাণস্থল এবং শহরের ব্যস্ত সড়কে প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন, অসুস্থ হচ্ছেন, এমনকি মৃত্যুবরণ করছেন, অথচ তাদের রক্ষায় সরকার, নিয়োগকর্তা, বা সেই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পক্ষ থেকে খুব সামান্যই সুরক্ষা পাওয়া যাচ্ছে, অথচ তারাই তাদের শ্রম থেকে মুনাফা অর্জন করে।

“আমরা প্রতিদিন যে পোশাক পরি, এমনকি আপনি এখন যেটা পরেছেন, সেটাও হয়তো এমন কোনো শ্রমিক তৈরি করেছেন যিনি কাজের সময় অচেতন হয়ে গিয়েছিলেন, ক্লান্তিতে কেঁদেছিলেন, বা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যহানির শিকার হয়েছেন। কারণ তিনি ছিলেন এক অসহনীয় গরম ও আর্দ্রতায় ভরা কারখানায়, যেখানে না ছিল ঠাণ্ডা হওয়ার ব্যবস্থা, না ছিল নিরাপদ পানীর পর্যাপ্ত সরবরাহ,”—বলেছেন ক্লাইমেট রাইটস ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস। “বহুজাতিক পোশাক প্রতিষ্ঠানসমূহ (ব্র্যান্ডসমূহ)এবং যেসব কারখানা তাদের পোশাক সরবরাহ করে, তাদের উচিত অতিরিক্ত বিরতির সুযোগ রাখা, ঠাণ্ডা পরিবেশ, ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া।”

172-পাতার প্রতিবেদনটি, “My Body Is Burning”: Climate Change, Extreme Heat, and Labor Rights in Bangladesh, জলবায়ু পরিবর্তন ও শ্রম শোষণের সংযোগস্থলে উদ্ভূত একটি সংকট উন্মোচন করে। ক্লাইমেট রাইটস ইন্টারন্যাশনাল ঢাকার সবচেয়ে তাপ-প্রবণ তিনটি শিল্প খাতের ৫০ জনের বেশি শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা সবাই তীব্র গরমের কারণে পানিশূন্যতা, ত্বকে চুলকানি, মাথাব্যথা, জ্বর, ডায়রিয়া, বমি, পেশীতে টান, পেশী নিয়ন্ত্রণ হারানো, সাময়িক দৃষ্টিহানি, বুকের ব্যথা, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা ও অচেতনতার মতো স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনটিতে পোশাকশিল্প, নির্মাণশিল্প ও পরিবহন খাতের শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে—তাদের নিজের ভাষায় বলা কথার মাধ্যমে—এবং দেখানো হয়েছে কীভাবে ধারাবাহিকভাবে শ্রম অধিকারের লঙ্ঘন শ্রমিকদের নিজেদের সুরক্ষা নেওয়ার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। (শ্রমিকদের উদ্ধৃতিগুলির জন্য অনুগ্রহ করে পরিশিষ্ট দেখুন।)

যদিও চীন, যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং ইউরোপীয় দেশগুলো জলবায়ু সংকট সৃষ্টিকারী নির্গমনের জন্য প্রধানত দায়ী, বাংলাদেশের মতো দেশগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার। রাজধানী ঢাকা  অতিরিক্ত তাপের প্রভাবের দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড অতিক্রম করেছে। ২০২৫ সালে ঢাকায় তাপ সূচক ছিল প্রায় ৪৮°C (প্রায় ১১৮°F), যার ফলে সারা শহরজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

“বাংলাদেশ প্রবল তাপদাহে জর্জরিত হচ্ছে, অথচ এই জলবায়ু সংকট সৃষ্টি করতে তাদের ভূমিকা ছিল প্রায় কিছুই না,”—বলেছেন অ্যাডামস।“ এই সংকটের মূল কারণ হলো শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলোর লাগামহীন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি প্রতিষ্ঠানসমূহের মুনাফাভিত্তিক কার্যক্রম, আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সেই সব সম্মুখ সারির সম্প্রদায়, যাদের হাতে টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে কম সম্পদ আছে। এটিই জলবায়ু অবিচারের সরল সংজ্ঞা।”

শ্রম অধিকার লঙ্ঘনটেকসই অভিযোজনের অন্তরায়

ঢাকার বহু শ্রমিকের পক্ষে তীব্র গরম এড়িয়ে চলার কোনো সুযোগ নেই। ক্লাইমেট রাইটস ইন্টারন্যাশনাল দেখতে পেয়েছে যে, অনেক শ্রমিককেই প্রবল গরমের মধ্যেও কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অধিকাংশ শ্রমিক জানিয়েছেন যে তারা নিজে কখনো না কখনো গরমে অজ্ঞান হয়ে গেছেন বা সহকর্মীদের এমন অবস্থায় পড়তে দেখেছেন। অনেকেই একাধিকবার অচেতন হয়ে পড়ার কথা বলেছেন। কেউ কেউ এমনকি সহকর্মীদের মৃত্যুও প্রত্যক্ষ করেছেন।

কর্মীরা প্রবল তাপমাত্রায় মানসিক ও আবেগগতভাবে ভুগেছেন। তারা বিভ্রান্তি, হতাশা, নিরাশা এবং উৎকণ্ঠার অনুভূতির কথা জানিয়েছেন – কেউ কেউ কাজের মাঝেই কেঁদেছেন। অনেকেই বলেছেন, তারা মনে করতেন,  তারা কাজের মধ্যে মারা যেতে পারেন। ক্লাইমেট রাইটস ইন্টারন্যাশনাল (সি আর আই) দেখেছে, এই প্রভাবগুলো প্রায়ই উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণ হয়েছে, কারণ কর্মীরা বলেছেন তারা অত্যাধিক গরমে ধীরে চলছিলেন ও কাজ করছিলেন, এমনকি কেউ কেউ বলেন এই মৌসুমে একটি কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সময় বেশি নেন। আবার অনেকে গরম-জনিত অসুস্থতার কারণে কর্মঘণ্টা সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হন, ফলে তারা এমন পারিশ্রমিক হারিয়েছেন যা হারানোর সামর্থ্য তাদের ছিল না।

পেশা সংক্রান্ত গরম-জনিত ক্ষতির বিষয়টি আরও খারাপ করে তুলছে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের কাঠামোগত নানান রকমের সমস্যা, যা কর্মীদের নিজেদের সুরক্ষা নেওয়ার ক্ষমতাকে সীমিত করে। সি আর আই জোরপূর্বক ও অবৈতনিক অতিরিক্ত সময় কাজ করানো, অতিরিক্ত গরমেও বিরতির অনুমতি না দেওয়া এবং ক্লান্তি বা গরমে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করলে মৌখিক অপমান ও হুমকির অনেক প্রতিবেদন পেয়েছে।

অনেক কর্মীই কর্মস্থলে শৌচাগারে প্রবেশাধিকার পান না, কিংবা ঘন ঘন শৌচাগার ব্যবহার না করতে চাপে থাকেন, অথবা আশঙ্কা করেন কর্মস্থলের পানির উৎস নিরাপদ নয়। এসব কারণে অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে পানি কম পান করেন যাতে ঘন ঘন শৌচাগারে যেতে না হয়, এরফলে দেখা দেয় পানিশূন্যতা, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং আরও গুরুতর গরম-সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি।

শ্রমিকরা সি আর আই-কে জানিয়েছেন যে, এই ধরনের অবিচার ও নির্যাতনের বিষয়ে এবং প্রচণ্ড গরমে তাদের ভোগান্তি নিয়ে মুখ খুলতে তারা ভয় পান, কারণ তারা প্রতিশোধের আশঙ্কা করেন।

এইসব অন্যায় আচরণের সম্মিলিত প্রভাব শ্রমিকদেরকে তীব্র তাপমাত্রা থেকে নিজেদের রক্ষা করার সুযোগ সীমিত করে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত গরমের কারণে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে, বলে জানিয়েছে ক্লাইমেট রাইটস ইন্টারন্যাশনাল। কর্মস্থলে কার্যকর অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন না করা হলে, তাপমাত্রার এই প্রভাব চলমান বিপজ্জনক কর্মপরিবেশকে আরও খারাপ করে তুলবে এবং ঢাকার শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও গভীর করবে।

প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়হীনতা

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এই পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রাখছে। কিছু আন্তর্জাতিক পোশাক প্রতিষ্ঠান যারা বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে, তারা এখনো অতি অল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদন সম্পন্ন করার দাবি করে এবং কম দামে পণ্য চায়, যার ফলে কারখানাগুলো কর্মীদের অতিরিক্ত কাজ করাতে বাধ্য হয়  এবং বাস্তব পরিস্থিতির প্রতি সামান্য গুরুত্ব দেয়। এদের প্রায় কেউই তীব্র গরমের ঝুঁকি থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠান যেমন; ভি এফ কর্পোরেশন, যারা দাঁ নর্থ ফেস, ভান্স, এবং টিম্বারলান্ড-এর মূল কোম্পানি – তাদের সরবরাহকারীদের আচরণবিধিতে তাপজনিত সুরক্ষার বিধান যুক্ত করেছে। তবে যেসব সরবরাহ ব্যবস্থায় এই ধরনের সুরক্ষা নীতিমালা আংশিকভাবে অন্তর্ভুক্ত আছে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে যে আরও বাড়তি পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং এসব নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন আরও কঠোর করতে হবে। সি আর আই এমন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছে, যাদের মতে তাদের কারখানাগুলো ভি এফ, এইচ এন্ড এম, সি এন্ড এ, ওয়ালমার্ট, প্রাইমার্ক, এবং নিউ লুক-এর মতো একাধিক ব্র্যান্ডের জন্য পণ্য তৈরি করে, এবং এই ব্র্যান্ডগুলো কর্মীদের গরম পরিবেশ থেকে রক্ষার জন্য অন্তত কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও, প্রায় সব শ্রমিকই সি আর আই-কে জানিয়েছেন যে তারা এখনো তীব্র গরমে ভুগছেন।

চুক্তিভিত্তিক (বা অ্যাপ-নির্ভর)  ও নির্মাণ শ্রমিকরা

এদিকে, ঢাকায় পরিচালিত অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলো চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য খুব সামান্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এসব কর্মীরা প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ দূরত্ব সাইকেল চালিয়ে এবং ভারী পণ্য বহন করে সামান্য মজুরি ও সীমিত সুবিধার বিনিময়ে কাজ করেন। সি আর আই খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপ্যান্ডা যা ডেলিভারি হিরো-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে। এসব কর্মীরা তীব্র গরমের মধ্যে ডেলিভারি কাজের শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক কষ্টের বর্ণনা দিয়েছেন। একইভাবে, শহরের নির্মাণ কোম্পানিগুলোও তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিপদ থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কর্মস্থলে নিরাপদ পানি ও শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিকদের জন্য কাজের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করাও কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

সরকারি পদক্ষেপের ঘাটতি

বাংলাদেশের শ্রম আইনে এই ধরনের অন্যায্য আচরণ ঠেকাতে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে না। যদিও দেশীয় আইন কাঠামোতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন অন্তর্ভুক্ত আছে, তবে বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান প্রবল তাপমাত্রার হুমকিকে পুরোপুরি বিবেচনায় নেয় না। তাছাড়া, এসব নিয়ম প্রয়োগে অসামঞ্জস্য রয়েছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, এটি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ, যেখানে জাতীয় শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ কাজ করেন।

গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি মোকাবেলায়, বাংলাদেশ সরকারের উচিত শ্রমিকদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর জলবায়ুভিত্তিক নীতি ও শক্তিশালী শ্রম আইন গ্রহণ করা, যার মধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতও অন্তর্ভুক্ত। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে কর্মক্ষেত্রে তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। প্যারিস চুক্তি ও ঢাকা সিটির বর্তমান অভিযোজন পরিকল্পনায় যে বিষয়গুলো উল্লেখ আছে, তার সফল বাস্তবায়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর আর্থিক সহায়তা অপরিহার্য—কারণ তারাই জলবায়ু সংকটের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

একই সময়ে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোরও উচিত তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করা এবং যেসব শ্রমিকদের ওপর তারা নির্ভর করে, তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর, যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, দেশজুড়ে সংস্কারের জন্য জনদাবি বেড়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর প্রতিক্রিয়ায় কর্মস্থলের নিরাপত্তা বৃদ্ধির মতো বহুদিনের বিলম্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কর্মস্থল-সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সনদগুলোতে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে—যেগুলো বাংলাদেশ পূর্বে অনুসমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচন দ্রুত এগিয়ে আসছে এবং এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে—এই প্রেক্ষাপটে এটা স্পষ্ট যে, দেশের পুনর্গঠনের এই পরবর্তী ধাপটি শ্রমিকদের জন্য অর্থবহ সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করার একটি দুর্লভ সুযোগ এনে দেবে।

“ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং সরকারগুলোর দায়িত্ব হলো শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান তীব্র গরমের হুমকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া,” বলেছেন নতুন প্রতিবেদনটির লেখিকা কারা শুল্টে। “নিয়োগকর্তা ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একসাথে কাজ করে তাপমাত্রা-সংক্রান্ত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা, শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা। এই পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য, শ্রমিকদের কল্যাণ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

পরিশিষ্ট

শ্রমিকরা তাদের নিজের ভাষায় গরমের প্রভাব ব্যাখ্যা করেছেন।

“প্রায় প্রতিদিনই [গরম মৌসুমে], আমাদের কারখানায় পাঁচ থেকে সাতজন মানুষ অজ্ঞান/অসুস্থ হয়ে পড়ে। পাঁচ থেকে সাতজন হঠাৎ করে ফ্যাক্টরি ফ্লোরে পড়ে যায়।”

“আমি দেখেছি একদিন প্রচণ্ড গরমে আমার [সহকর্মী] মাথা ঘুরে পড়ে যায় … সে ঝুলন্ত মাচান [মঞ্চ] থেকে নিচে পড়ে যায়… এবং মারা যায়। আমার অনেক সহকর্মীই এই সমস্যার মধ্যে আছেন। তারা কখনও কখনও অজ্ঞান হয়ে যায়… খুব গরমের দিনে।”

“যখন আর্দ্রতা আর গরম দুই-ই বেশি থাকে, তখন এই পরিবেশে কাজ করা সত্যিই কষ্টকর… কখনও কখনও আমি সত্যিই মনে করি… যেন এইভাবে মারা যাবো।”

“কখনও কখনও আমার হাত আর পায়ের পেশিতে টান ধরে। আর মাঝে মাঝে বমি হয়। মাথাও ঘোরে। আরও অনেক কিছু হয়। ঠান্ডা লাগে, জ্বর আসে। গরমের দিনে অনেক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হই।”

শ্রমিকরা ব্যাখ্যা করেন কীভাবে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন অভিযোজনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়.

“আমি যদি পানি খাওয়ার জন্য একটু বিরতি নেই, আর ঠিক সেই সময় কন্ট্রাক্টর দেখে ফেলেন যে আমি বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করছি, তাহলে সাথে সাথে গালিগালাজ শুরু করেন। কেউই বিরতি নিতে পারে না। অনেক সময় খুব পিপাসা লাগে, কিন্তু তবুও বিরতি নিতে পারি না।”

“আসলে আমি ইচ্ছে করেই কম পানি খাই, কারণ কাজের চাপ অনেক। যদি বেশি পানি খাই, তাহলে টয়লেটে যেতে হবে—যার জন্য সময় লাগে। কিন্তু আমাকে প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ পিস কাজ শেষ করতে হয়।”

“আমি ১৪ ঘণ্টা কাজ করলেও, এর মধ্যে আর কোনো বিরতি থাকে না।”

Like this article?

Share on Facebook
Share on X
Share by Email

Related Articles

RelatedArticles